চাল কার্বোহাইড্রেটের প্রধান উৎস। আমাদের দেশে মূলত সিদ্ধ 'ও আতপ চাল ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। এছাড়া ঢেঁকিছাঁটা ও কলে ছাঁটা চালও ব্যবহৃত হয়। এই চাল দিয়ে চিড়া মুড়ি ও খই তৈরি করা হয়।
চালের প্রধান, পুষ্টি উপাদান হলো কার্বোহাইড্রেট এটি শক্তি প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চালের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পুষ্টি উপাদানের মধ্যে প্রোটিন, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন ও নয়াসিন রয়েছে।
ভাত রান্নার সময় মাড় ফেলে দিলে অনেক মূল্যবান পুষ্টি উপাদান নষ্ট হয়ে যায়। মাড়ে থাকা ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ রান্নার পানির সাথে বের হয়ে যায়। তাই মাড় না ফেলে বসাভাত রান্না করা উচিত।
গম বাংলাদেশের শস্যজাতীয় খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গম থেকে আটা, ময়দা ও সুজি পাওয়া যায়। এর মধ্যে ময়দার তুলনায় আটা ও সুজির পুষ্টিমূল্য বেশি। গম দিয়ে তৈরি সব খাবার চালের মতোই খাদ্যশক্তি প্রদান করে।
গমের প্রধান পুষ্টি উপাদান হলো কার্বোহাইড্রেট। এছাড়াও এতে প্রোটিন, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নায়াসিন ও ভিটামিন রয়েছে। এইগুলো দেহের শক্তি প্রদান এবং শারীরিক গঠন বজায় রাখতে সহায়তা করে।
গম ভাঙানোর সময় গমের বাইরের আবরণ ভূসি হয়ে বেরিয়ে যায়। ভুসির সাথে অনেক পুষ্টি উপাদান চলে যায়, যা আটা ও লাল আটায় তুলনামূলক বেশি থাকে।
সাদা আটায় গমের উপরের আবরণ থাকে না, তাই এতে পুষ্টি উপাদান কম থাকে। লাল আটায় গমের উপরের আবরণ থাকে বলে এটি স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী।
সাদা আটায় গমের উপরের আবরণ থাকে না, তাই এতে পুষ্টি উপাদান কম থাকে। লাল আটায় গমের উপরের আবরণ থাকে বলে এটি স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী।
শুঁটকি মাছে তাজা মাছের তুলনায় ২-৩ গুণ বেশি প্রোটিন থাকে। এছাড়া শুঁটকি মাছ তাজা মাছের তুলনায় বেশি পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সরবরাহ করে। শুঁটকি মাছের এই পুষ্টিগুণের জন্য এটি অনেক অঞ্চলে জনপ্রিয়।
ইলিশ, শিং, পাঙ্গাশ, কই, সরপুটি ইত্যাদি মাছ বেশি ফ্যাটযুক্ত। 'এই মাছে খাদ্যশক্তি বেশি থাকে এবং খেতে সুস্বাদু। অধিক ফ্যাটযুক্ত মাছ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহে সহায়তা করে।
দেশি মুরগির মাংসে ফ্যাট কম থাকে তাই এটি স্বাস্থসম্মত। অন্যদিকে ফার্মের মুরগিতে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি। মুরগির কলিজাতে প্রচুর লৌহ, ভিটামিন এ, ডি ও বি ভিটামিন পাওয়া যায়।
মাংসের প্রধান পুষ্টি উপাদান হলো প্রোটিন। এছাড়া এতে ফ্যাট, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নায়াসিন, বি-১২, ভিটামিন এ, ডি এরং ই, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও লৌহ পাওয়া যায়। মাংস, যকৃত লৌহ এবং ভিটামিনের ভালো উৎস।
সামুদ্রিক মাছ থেকে আয়োডিন পাওয়া যায় যা থাইরয়েড গ্রন্থির সঠিক কার্যক্রমে সাহায্যে করে। কড ও শার্ক মাছের যকৃতের তেলে ভিটামিন এ এবং ডি পাওয়া যায়, যা চোখের জন্য উপকারী এবং এটি হাড় মজবুত করে।
ছোলা, মুগ ও মাষকালাইয়ের খোসাসহ আন্ত বীজ ভিজিয়ে রাখলে তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে অঙ্গুরোদগম হয়। অঙ্গুরিত ডালে অন্যান্য প্রায় সব ভিটামিন শুকনা ডালের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। এটি খাদ্যকে আরো পুস্টিকর করে।
ডিম দেহ গঠনের উপযোগী সব পুষ্টি উপাদান ধারণ করে। ডিমের সাদা অংশ সম্পূর্ণ প্রোটিন দিয়ে গঠিত এবং কুসুমে লৌহ, ফসফরাস, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন থাকে। ডিমে প্রোটিন উচ্চ মানের এবং শতকরা ১০০ ভাগই দেহে কাজে লাগে।
হাঁসের ডিম মুরগির ডিমের চেয়ে আকারে বড় হওয়ায় এতে খাদ্য শক্তি ও পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে। হাঁসের ডিমে ভিটামিন এর পরিমাণ বেশি। এছাড়া অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও বেশি পাওয়া যায়।
দুধে প্রোটিন, রিবোফ্লাভিন, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস প্রধান পুষ্টি উপাদান। প্রোটিন দেহের বৃদ্ধি ও পুনর্গঠনে সাহায্য করে। রিবোফ্লাভিন শরীরের শক্তি উৎপাদনে এবং ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতের গঠন শক্তিশালী করতে সহায়তা করে।
ডিমের সাদা অংশ সম্পূর্ণ প্রোটিন দিয়ে গঠিত এবং এতে ফ্যাট নেই। অন্যদিকে, কুসুমে লৌহ, ফসফরাস, থায়ামিন ও রিবোফ্লাভিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে। কুসুমে পুষ্টিগুণ-শরীরের গঠন ও রক্ত তৈরি করতে সাহায্যে করে।
শাকসবজি ও ফলে প্রধানত কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন, ধাতব লবণ ও পানি পাওয়া যায়। এগুলো দেহের পুষ্টি চাহিদা পূরণ দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও রোগপ্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
ফুলকপি, কাঁচামরিচ, ক্যাপসিকাম, বাধাকপি, ব্রোকলি ও টমেটো ভিটামিন সি এর ভালো উৎস। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করে। এটি নিয়মিত খেলে দেহ সুস্থ থাকে।
শুঁটি ও বীজ-সবজির উদ্ভিজ্জ প্রোটিন এবং ভিটামিনের ভালো উৎস। 'এগুলো দেহের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করে এবং দেহের শক্তি বৃদ্ধি করে।
লেবুজাতীয় ও জাম জাতীয় ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও চামড়া সুস্থ রাকে। এ ধরনের ফল নিয়মিত খেলে দেহ সুস্থ ও সতেজ থাকে।
রসালো ফলে প্রচুর পানি থাকে, যা দেহের পানির চাহিদা পূরণ করে। এগুলো তৃষ্ণা মেটায় ও দেহকে সতেজ রাখে। এচাড়া রসালো ফলে থাকা ভিটামিন ও খনিজ উপাদান দেহের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে।
প্রাণিজ উৎস থেকে ঘি তৈরি হয়। দূধের সর থেকে প্রথমে মাখন এবং মাখন থেকে ঘি উৎপাদিত হয়। ঘি খাবারে ফ্যাটের পাশাপাশি ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে সরবরাহ করে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allবাংলাদেশে দ্বিতীয় শস্যজাতীয় খাদ্য হলো গম।
ডিম একটি প্রোটিনজাতীয় খাদ্য। দেহ গঠনের উপযোগী সব উপাদান ডিমে উপস্থিত। ডিমের উপাদান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সম্পূর্ণ ডিমে পানি, প্রোটিন, ফ্যাট এবং ধাতব লবণ। ডিমের সাদা অংশ ও কুসুমের মধ্যে উপাদানের তফাৎ হয়। ডিমের প্রোটিন উৎকৃষ্ট মানের এবং শতকরা ১০০. ভাগই দেহের কাজে লাগে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাহেলার সমুদ্রসৈকতে দেখা মাছ আমাদের দেহের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে। শুঁটকি মাছে ধাতব লবণ থাকে। ধাতব লবণের মধ্যে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লোহা ও আয়োডিন উল্লেখযোগ্য। মাছের কাঁটাতে ক্যালসিয়াম থাকে। তাই যে মাছ কাঁটাসহ খাওয়া যায় সেই মাছ থেকে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। সামুদ্রিক মাছ থেকে আয়োডিন পাওয়া যায়। উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, প্রাণিজ প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস হচ্ছে মাছ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাহেলা সবসময় যে মাছ খেয়ে থাকে তা হলো তাজা মাছ. এবং সমুদ্রসৈকতে দেখা মাছ হলো শুঁটকি মাছ। বাংলাদেশে কোনো কোনো অঞ্চলে শুঁটকি মাছ খুবই জনপ্রিয়। শুঁটকি মাছে তাজা মাছ অপেক্ষা ২-৩ গুণ বেশি প্রোটিন থাকে। এছাড়াও শুঁটকি মাছে তাজা মাছের চেয়ে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। তাজা মাছের মধ্যে কাঁটাসহ ছোট মাছে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। শুঁটকি মাছে তাজা মাছের চেয়ে অনেকগুণ বেশি ধাতব লবণ থাকে। উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, শুঁটকি মাছে গুণগতমান তাজা মাছের চেয়ে অনেক বেশি।
চালের চেয়ে গয়ে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকে।
লাল গমে খাদ্যোপাদান বেশি হওয়ার কারণ হলো বাংলাদেশের দ্বিতীয় খাদ্যশস্য গম। গম থেকে আমরা আটা, ময়দা ও সুজি পাই। গমে প্রচুর খাদ্যশক্তি ও প্রোটিন থাকে। লাল গমের ওপর আবরণ 'থাকায় পুষ্টিমূল্য নষ্ট হতে পারে না বলে খাদ্যোপাদান বেশি থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!